যুক্তরাষ্ট্রে ‘মার্ডার হর্নেট’ আতঙ্ক

Spread the love
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এশিয়ান জায়েন্ট হর্নেট। মৌমাছির থেকে আকারে কিছুটা বড় এই পতঙ্গের বিষাক্ত হুল মানুষের শরীরে ফুটলে মৃত্যু অনিবার্য।সম্প্রতি এই হর্নেট ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে মার্কিন মুলুকে।

দ্রুত এই পতঙ্গকে বাগে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও কোনো বড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারে মানব জাতি এমন্টাই বলেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর ডেইলি মেইলের।

যার ফলে বিশেষজ্ঞ মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, যেভাবে গোটা আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে দৈত্যাকৃতির এই হর্নেট গুলি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে আরও কোনো বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে না হয়!

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির এনটমোলজিস্ট ডেভিড ক্রোডার বলেছেন, ‘এটি যদি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ আক্রমণাত্মক একটি প্রজাতি হবে এটি। যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এটি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানে বেশি দেখা যায় এবং ওই দেশ গুলিই জায়ান্ট হর্নেটের আদি বাসস্থান বলে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এশিয়ান জায়ান্ট হর্নেট মৌমাছির চেয়েও দ্বিগুণ বড় এবং তিন ইঞ্চিরও বেশি মাপের লম্বা ডানা রয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ডাব্লুএসডিএ কানাডার সীমান্ত লাগোয়া ওয়াশিংটনের ব্লেইনের কাছে এশিয়ান জায়ান্ট হর্নেটের দুটি প্রজাতির খোঁজ মিলেছিল। সেই সময় এগুলো ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দেখা এশিয়ান জায়ান্ট হর্নেটে।

এছাড়াও ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার দুটি জায়গায় এশিয়ান জায়ান্টের আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। জানা গিয়েছে, মারাত্মক ক্ষতিকর এই হর্নেট কেবল এক মিনিটের মধ্যে ৪০টি মৌমাছিকে মেরে ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, এরা মৌমাছিদের মেরে নিজেদের বাচ্চাদের তা খাওয়ায়৷ ফলে মৌমাছি হল এদের অন্যতম একটি প্রধান খাদ্য।

এরা সেভাবে মানুষদের আক্রমণ করে না। আর যদি কোনো মানুষের শরীরে এরা একবার হুল ফুটিয়ে ফেলতে পারে তাহলে এর বিষাক্ত রঞ্জন মানব দেহে প্রবেশ করে শরীরের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এমনকি এর কারণে মৃত্যুও পর্যন্ত ঘটতে পারে।

আমাদেরকন্ঠ/বুলবুল হোসেন মোড়ল  

Related posts