সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে সম্পর্ক বদলে দেয়

Spread the love

লাইফস্টাইল: আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া আপনার পরিচিত লোকদের সাথে সম্পর্ক তৈরি এবং বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এই সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণ একজন মানুষকেও তারকা বানিয়ে দিচ্ছে। তাও আবার খুবই কম সময়ের মধ্যে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিংকডিন, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের সাথে সংযোগের নতুন ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের সম্পর্ক বদলে দিচ্ছে  এবং এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?

সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক দিক

সবাই জানেন, সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগ তৈরি এবং নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি দুর্দান্ত উপায়। এর মাধ্যমে আপনি সর্বস্তরের লোকের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন যা অন্যভাবে সম্ভব হত না। এর অর্থ আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি ধারণা এবং অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। আপনার পেশাগত সমস্যার সমাধান করার জন্যও সবচেয়ে কার্যকরী তথ্য পেতে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কের শৈলীগুলো বিভিন্ন উপায়ে পরিবর্তন করে। এটি আপনাকে খুব অল্প সময়ে আরো বেশি লোকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে দেয়। এটি ঘনিষ্ঠতার স্তরকে সহজ করে দেয় যা আপনি অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। এটি আপনাকে অন্য ব্যক্তির আচরণ, মনোভাব এবং বিশ্বাসের কারণে আরো দুর্বল করে তুলতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে নিজের সামাজিক নেটওয়ার্কের অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে। যার ইতিবাচকের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব উভয়ই থাকতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক দিক

যদিও প্রথম দুটি দিক অবশ্যই আপনার পেশাগত জীবনে ইতিবাচক এবং দরকারি তবে আপনার সামাজিক মিডিয়ার খারাপ দিক সম্পর্কেও সতর্ক হওয়া দরকার। এখানে আপনি সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করতে পারেন তা হলো, ডিজিটাল ঘনিষ্ঠতাকে সত্যিকারের ঘনিষ্ঠতা ভেবে নেয়া। আপনি অনলাইন সংযোগ নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ভাবতে শুরু করেন যে এই সম্পর্কগুলো বাস্তবে আরো নিবিড় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কখনোই মুখোমুখি হননি এমন মানুষের সঙ্গে আপনি অনেক তথ্যই শেয়ার করেন। আপনার ব্যবসা বা পেশায় আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন সম্পর্কের সঠিক ব্যালেন্স করছেন। এটি আপনাকে ব্যক্তিগত এবং পেশাগতভাবে সফল হতে সহায়তা করবে।

সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কের আরেকটি নেতিবাচক দিক রয়েছে, এটি আপনার মন-মেজাজকে দ্রুতই প্রভাবিত করতে পারে। এর অর্থ হলো, যদি অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্কের কেউ আপনার সঙ্গে শত্রুতা করলে বা রাগন্বিত হলে, তা দ্রুতই আপনার মেজাজকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও আপনি কখনো সেইব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বা অফলাইনে তাদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেননি, কিন্তু তাদের নেতিবাচক আচরণ আপনাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অন্যরা কতটা সফল, তার উপর ভিত্তি করে নিজের সাফল্যকে মাপতে শুরু করেছেন? এর মানে হলো, আপনি ভীষণভাবে সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত। অন্যরা কীভাবে তাদের জীবনযাপন করছে বা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে সে সম্পর্কে অনলাইনে প্রচুর তথ্য রয়েছে, তাই আপনি প্রতিযোগিতা করতে পারবেন না এমন অনুভব করা খুব সহজ হয়ে যায়। এটি আপনার অনলাইন জীবনের সঙ্গে আপনার বাস্তব জীবনকে কেনাবেচার মতো মনে হতে পারে।

আমাদেরকণ্ঠ/আরএ

Related posts