Amader Kantho- Bangla Online News Portal and Bangladeshi online news source for Game, Binodon, politics, national, international, lifestyle, sports, and many more factors.

ঢাকা, সোমবার, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৬ জুলাই, ২০২১

Facebook Facebook Facebook Facebook

চায়ের আড্ডায় বেরিয়ে এলো খুনের রহস্য!

নড়াইল প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ০২:৪৭
চায়ের আড্ডা

ক্লুলেস একটি খুনের ঘটনা তদন্তে চলছে দায়িত্বরত কর্মকর্তার দৌড়ঝাঁপ। কোনোভাবেই রহস্যের কুলকিনারা করতে না পারা ওই পুলিশ কর্মকর্তা একদিন আদালত পাড়ার চায়ের দোকানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এসব দোকানের ক্রেতা সাধারণত উকিলদের মক্কেল সংশ্লিষ্ট। জামিন বা মামলার তদবির করতে আসা মক্কেলরা এসব দোকানে বসে চা খান, সময় কাটাতে গল্প করেন।

ভিড় কমতেই ওই চা দোকানিকে কথার ছলেই জিজ্ঞাসা করেন নির্ধারিত এলাকার কোনো খুনের বিষয়ে কখনো শুনেছে কি-না। প্রায় তিন বছর আগের ঘটনা, তাও দোকানদার স্মৃতি হাতরে এক জামিনপ্রাপ্ত আসামির গল্পের কথা বলেন। চা দোকানি যেই আসামির গল্প বলছিলেন, সেটিও তার জেলখানায় থাকাকালীন সময়ের অপর এক চোরের গল্প। ওই গল্পেরই সূত্র ধরে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো এগুতে থাকেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা। একসময় হিসেব দুয়ে-দুয়ে চার মিলে যায়, উদঘাটিত হয় একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

পিবিআই সূত্র জানায়, নড়াইলের লোহাগড়া থানার নোয়াগ্রামের আমিরুল ইসলাম টনিক ভাগ্যান্বেষণে দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। ভালো অর্থ উপার্জন করে দেশে ফিরে থিতু (স্থায়ী) হয়েছেন বাড়িতে। ব্যবসা করবেন বলে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেন। ব্যবসার উন্নতি দেখে আরও একটি গাড়ি কেনার জন্য একদিন ১২ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলেন। সেদিন রাতে পাকা বাড়িতে টনিক নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা হালকা শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। এর মধ্যেই ‘তুই এখানে কি করিস’ বলে কাউকে তাড়া করে বাইরে নিয়ে যান। আদতে জানালার গ্রীল কেটে চোর ঢুকেছিল। সেই চোরকেই তাড়া করেন টনিক। তবে কিছুক্ষণ পর টনিককে খুঁজে পাওয়া গেল কিছুটা দূরে। তিনি মাথায় মারাত্নক জখম নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।

তখনই ব্যাটারিচালিত অটোরিশায় করে তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় খুলনায়। আহত টনিককে তার মা জিজ্ঞাসা করেন- ‘চোর তো মনে হয় চিনেছো, কে এমন সর্বনাশ করলো।’ আহত টনিকের উল্টো জবাব-‘আগে ঘরে ফিরি। তারপর দেখ কি করি। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ দিন ডাক্তার-নার্সদের সব চেষ্টা বিফল করে টনিক মারা যান। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষে থানায় খুনের মামলা দায়ের করেন টনিকের চাচাতো ভাই লাবু শেখ। খুনি-চোররা সবাই অজ্ঞাত। প্রায় দুই বছর বিভিন্ন সংস্থা ঘুরে মামলার তদন্তভার যায় পিবিআইতে।

নড়াইলে পিবিআই’র কোনো কার্যালয় না থাকায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম যশোর থেকেই পরিচালিত হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শুধু এতটুকুই তথ্য- চোর টনিকের পরিচিত হতে পারে, আর এ ভরসায় এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি করেন তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা সে পথেই অন্য পন্থা অবলম্বন করতে থাকেন। খুঁজে বের করা হয় টাবু শেখের বন্ধু-বান্ধবদের। একে একে গ্রেফতার করা হয় চারজনকে। যারা সবাই আদালতে স্বীকার করেন, টনিকের ব্যাংক থেকে উঠানো ১২ লাখ টাকার জন্যই টাবু শেখসহ টনিকের ঘরে ঢুকেছিলেন।

বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জিয়াউল হক
চেয়ারম্যান: মিসেস নাজমা হক
উপদেষ্টা: এ.কে.এম. মর্তুজা, সাবেক যুগ্ম সচিব
ঠিকানা: শাঁহ আলী টাওয়ার (৩য় তলা)
৩৩, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ ।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।
©২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । আমাদেরকণ্ঠ২৪ ডট কম, জিয়া গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ।